blog 1

অনলাইন ব্যবসার জন্য ই-কমার্স ওয়েবসাইট কেন প্রয়োজন?

 

আমাদের দেশে অনেকেই ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে ঘরে বসে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করছে। হয়তো আপনি বলতে পারেন আমি তো ফেইসবুক পেজ দিয়েই ভালো টাকা ইনকাম করছি, তাহলে আমি কেন টাকা দিয়ে ওয়েবসাইট করবো? একবার ভাবুন তো যদি কোনো কারণে আপনার ফেইসবুক পেজ টি Block অথবা suspend হয়ে যায়, এই ছাড়া ও আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ Report করে শেষ করে দিতে পারে আপনার অনেক কষ্টে গোড়া ফেইসবুক পেজটি। যদি কোন কারণে আপনার ফেইসবুক একাউন্ট হ্যাক হয় সেই ক্ষেত্রে ও আপনার ফেইসবুক পেজ টি আপনি হারাতে পারেন। যদি আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকে তাহলে আপনার ফেইসবুক পেজ নষ্ট হয়ে গেলেও আপনার কাস্টমার ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে খুঁজে পাবে। আপনার ওয়েবসাইট থাকলে কেউ আপনার পেজ Copy করলে আপনার কাস্টমার তা বুজতে পারবে। ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে আপনি Google থেকে অনেক কাস্টমার পাবেন, যদি আপনার ওয়েবসাইট টি Google  Rank আসে। এবং ওয়েবসাইট এ Facebook Pixel সেট আপ করে অল্প টাকায় Re-target এড করে অনেক সেল বৃদ্ধি করতে পারবেন। Europe , America এর মত উন্নত দেশে অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি মানুষের ব্যক্তিগত কাজের জন্য কোটি-কোটি ওয়েবসাইট রয়েছে। প্রায় অর্ধেক ক্রেতা আপনার সম্পর্কে জানতে অথবা আপনার পণ্য / সেবার মূল্য সম্পর্কে জানতে , গুগল এ আপনার ব্রান্ড লিখে সার্চ করে । ওয়েবসাইট না পেলে ৩০% মানুষ প্রফেশনাল ব্যবসা বলেই মনে করবেনা । আপনাকে না পেলে তারা অন্য কোথাও চলে যেতে পারে । ২ টা একইরকম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান । একটা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট আছে , স্বাভাবিক ভাবেই ক্রেতা তাদের সার্ভিস আগে নিবে । ওয়েবসাইট দেখে তাদের প্রতি বিশ্বাস বেড়ে যাবে । ভাল সেবা দিতে তারা প্রতিজ্ঞ বলে মনে হবে। বর্তমান এ ডিজিটাল যুগ এ ছোট বড় সব ধরনের প্রতিষ্ঠান এর একটা Website থাকা দরকার । যদি কেউ প্রতিযোগিতায় হেরে ব্যবসা বন্ধ করে ঘরে ফিরে যেতে চায় তাহলে ভিন্ন কথা !!

শুধু Website আর Social Media নয় , ডিজিটাল যুগ এ সফল হতে বাজেট অনুযায়ী সঠিক ডিজিটাল পরিকল্পনা দরকার । এটাকে খরচ মনে করে ভুল করবেন না । এটা ইনভেস্ট , আপনি যা খরচ করবেন তা থেকে কত গুন বেশি লাভ করবেন তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেনা। তবে আমরা আপনার সফলতার ব্যাপারে আশাবাদী । আল্লাহ্‌ উত্তম সাহায্যকারী, আল্লাহ্‌  উত্তম কর্ম-বিধায়ক । এই পোস্টে আমরা আলোচনা করব, আপনার অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসার জন্য একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট কেন জরুরি।

১। কাস্টমার পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ওয়েব সাইট অনেকটা ইনফ্লুয়েন্স করে থাকে

অনেক ভাবতে পারেন এটা কিভাবে? যখন একজন কাস্টমার কোন পণ্য ক্রয় করতে মনস্থির করে সে সর্ব প্রথম ইন্টারনেটে উক্ত পণ্যটি সার্চ দিয়ে থাকে। এখন আপনার পণ্য যদি ওয়েব সাইটে লিস্টিং করে থাকে তখন সার্চ ইঞ্জিন আপনার পণ্যটিও কাস্টমার কে দেখাতে পারে। এছাড়া যারা অনলাইনে কেনা কাটা করে তাদের ক্ষেত্রে দেখবেন যাদের ওয়েব সাইট আছে তাদের থেকে কাস্টমার ক্রয় করতে অনেক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। উদাহরণ হিসেবে দেখতে পারেন দেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন শপ গুলোর সেলস জেনেরেট হয়ে থাকে ওয়েব সাইট থেকেই। আপনি কখন দেখবেন না আম্যাজন ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে সেল করে। বড় জোর পেইজের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন বিজ্ঞাপন গুলো প্রচার করে থাকে।

২। নিজস্ব ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করা

ফেসবুকের হাজার হাজার ফেসবুক পেজের ভীরে আপনার ব্যবসাকে আপনি কখনই একটি দীর্ঘমেয়াদী ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। ইন্টারনেটের এই বিশাল জগতে আপনার নিজস্ব ওয়েবসাইটেই পারে আপনার ব্যবসাকে একটি ইউনিক পরিচয় দিতে এবং ব্র্যন্ড হিসেবে সবার সামনে প্রতিষ্ঠিত করতে। আমাজন, আলীবাবা, ফ্লিপকার্ট কিংবা আমাদের দেশের দারাজ, পিকাবো – এরা সকলেই নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। এদের কাছে, ফেসবুক পেজ কেবলমাত্র একটি প্রমোশনের মাধ্যম।

৩। ই-কমার্স ওয়েব সাইট কাস্টমারের কাছে পণ্য বাচাই সহজলভ্য করে তোলে

যখন আপনার ওয়েব সাইট পণ্য দিয়ে সাজানো থাকবে তখন একজন কাস্টমার খুব সহজে কিন্তু ক্যাটগরি ধরে ধরে আপনার সব গুলো পণ্য দেখতে পারছে। কিন্তু একটি ফেসবুক পেইজে বা পিজিকাল স্টোরে কাস্টমার সেই সুযোগ টা পাচ্ছে না। আপনার সাজানো ওয়েব সাইটটি যখন থাকবে তখন কিন্তু কাস্টমার অনেক গুলো পণ্য দেখে আপনার বিভিন্ন অফার গুলো দেখে সহজে কম্পেয়ার করে পণ্য ক্রয় করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে কাস্টমার একটি পণ্য কিনতে গিয়ে অনেক পণ্যর সমাহার দেখে সে একের অধিক পণ্য কিনে থাকে।এই ক্ষেত্রে আপনি নিজেকেই উদাহরন হিসেবে নিতে পারেন। আপনি যখন কিনতে থাকেন যখন দেখেন উক্ত ওয়েব সাইটে ১ টার সাথে আরেকটা কিনলে কিছু একটা ফ্রি বা ডিস্কাউন্ট তখন কিন্তু একের অধিক পণ্য কিনতে উৎসাহ পেয়ে থাকেন।

৪। কাস্টমারদের বিশ্বাস অর্জন

অনলাইনে যারা কেনাকাটা করে তাদের সকলের ইন্টারনেট সম্পর্কে অল্প-বিস্তর ধারনা আছে। কয়েক ক্লিকেই একটি ফেসবুক পেজ খুলে মুহুর্তের মাঝেই একটি অনলাইন ব্যবসা শুরু করা যায় – এই বিষয়টি এখন একটি ওপেন সিক্রেট। আর এত সহজেই অনলাইন ব্যবসা শুরু করা যায় বলে এক শ্রেণীর মানুষ প্রতারণা করার বিশেষ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ফেসবুককে। এখন প্রায় প্রতিনিয়তই সাধারন ক্রেতাদের প্রতারিত হবার কহব পাওয়া যায়। তাই সতর্ক ক্রেতাগণ শুধুমাত্র ফেসবুক পেজের উপর বিশ্বাস রাখতে পারেন না। এই অবস্থায় একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট, আমি আবারো বলছি – একটি প্রফেশনাল ই-কমার্স ওয়েবসাইট খুব সহজেই একজন কাস্টমারের বিশ্বাস অর্জন করতে পারে।

৫। সার্চ ইঞ্জিন থেকে নতুন নতুন কাস্টমার পাচ্ছেন

আপনার যখন এসইও ফ্রেন্ডলি ওয়েব সাইট থাকছে তখন কিন্তু আপনি সার্চ ইঞ্জিন থেকে অনেক কাস্টমার পাচ্ছেন। সার্চ ইঞ্জিন থেকে আপনি ফ্রিতেই কাস্টমার গুলো পাচ্ছেন। সার্চ ইঞ্জিন থেকে যখনি আপনি কাস্টমার পাওয়া শুরু করবেন তখনি আপনার বিজনেসে রেভিনিউ কিন্তু কয়েক গুন বেড়ে যেতে থাকবে। কারন সার্চ ইঞ্জিনের ভিজিটর গুলো পেতে আপনাকে কোন ধরনের বিজ্ঞাপনের খরচ করতে হচ্ছে না। সার্চ ইঞ্জিন থেকে নতুন নতুন কাস্টমার পেতে হলে আপনাকে বানাতে হবে এসইও ফ্রেন্ডলি করে ই-কমার্স ওয়েব সাইট।  এই ক্ষেত্রেও ওয়েব সাইটের গুরুত্ব কত বেশি তা বুজা যাচ্ছে। তাছাড়া আমাদের দেশেও গুগুল থেকে সার্চ করে পণ্য কিনার হার দিনে দিনে বেড়েই যাচ্ছে। এই কাস্টমার গুলো যাদের ওয়েব সাইট আছে এবং এসইও নিয়ে কাজ করে তারা পেয়ে যাচ্ছে। এখানেও ওয়েব সাইট না থাকায় আপনি পিছিয়ে যাচ্ছেন।

৬। প্রোডাক্ট প্রদর্শনের সুব্যবস্থা

আপনার কাস্টমারদের আপনি যত দ্রুত, সহজে এবং সুন্দরভাবে বিভিন্ন প্রোডাক্ট দেখাতে পারবেন, আপনার প্রোডাক্ট বিক্রির হার ততই বাড়বে। আপনার শত শত প্রোডাক্ট গুলোকে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে আপনি কখনোই সুন্দরভাবে পদর্শন করতে পারবেন না। একইভাবে একজন ক্রেতার জন্য ফেসবুক পেজের মাধ্যমে তার বাজেট এবং পছন্দ মত প্রোডাক্টগুলো খুঁজে পাওয়া একটি সময়সাপেক্ষ এবং বিরক্তিকর ব্যপার। অন্যদিকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি আপনার প্রোডাক্ট গুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরি এবং সাব-ক্যাটাগরিতে সুবিন্যস্তভাবে সাজিয়ে রাখতে পারবেন। একজন কাস্টমার আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করে কয়েক ক্লিকেই তার বাজেট এবং পছন্দ মত প্রোডাক্টগুলোকে খুঁজে নিতে পারবে। এর ফলে আপনার কাস্টমারগণ উপভোগ করবে একটি সুন্দর এবং আনন্দময় শপিং অভিজ্ঞতা।

৭। কাস্টমার রি-টার্গেট করা

কোন একজন কাস্টমার আপনার ফেইসবুক বিজ্ঞাপন দেখে ওয়েবসাইট গিয়েছে, হটাৎ কোন ব্যাস্ততার কারণে প্রোডাক্ট টি ক্রয় করেনি। ফেইসবুক পিক্সেল ওয়েবসাইট এ কানেক্ট করে তাকে আবার বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবেন। অনেকটা ম্যানুফুলেট করে ফেলে কাস্টমারকে পণ্যটি কিনতে। সবচেয়ে বড় উদাহরণ আপনি নিজেই হতে পারেন। আপনি যখন অনলাইনে কোন পণ্য দেখে আসেন কোন ওয়েব সাইটে দেখবেন সেই পণ্য বার বার আপনার ফেসবুক ওয়ালে দেখাচ্ছে।

৮। কাস্টমারের ডাটা সংরক্ষণ

ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে ডাটা সংরক্ষণ করে বিভিন্ন occasion এ মার্কেটিং করে সেল বৃদ্ধি করতে পারবেন।আমরা যদি কোন নামি দামী কম্পানি বা ওয়েব সাইট থেকে পণ্য কিনে থাকি বিভিন্ন  occasion এ বিজ্ঞাপন মূলক মেইল , ম্যাসেজ বা কল পেয়ে থাকি। আপনি আপনার পূর্বের কাস্টমারদের ডাট গুলো সংরক্ষণ করে রাখতে পারছেন এবং তাদেরকে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনমূলক ম্যাসেজ বা মেইল পাঠাতে পারবেন। 

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

No comment yet, add your voice below!


Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!